রবিবার, ১০ মে, ২০২০

টাইগার বার্ব ব্রিডিং

                     টাইগার বার্ব ; ব্রিডিং


রঙ্গিন মাছের জগতে আরো একটি পরিচিত মাছের নাম হলো টাইগার বার্ব। ছোট সাইজের এই মাছ টি সচরাচর সব দোকানেই পাওয়া যায়। টাইগার বার্বের অন্যতম আর্কষণ হলো এরা দল বেধে সাতার কাটতে পছন্দ করে। আপনি চাইলে খু্ব সহজেই ব্রিডিং করতে পারেন এই মাছটি। ভূমিকা না বাড়িয়ে চলুন বিস্তারিত আলোচনা করি।
#মেল ফিমেল চিনার উপায়;;
১।প্রাপ্ত বয়স্ক মেলের নাকে গারো লাল / কমলা রং দেখা যায়।

২।মেল ফিসের কালার অনেক গারো হয় যেখানে ফিমেলের কালার অতটা গারো নয়।


৩।ফিমেলের বডি মেলের তুলনায় চওড়া ও মোটা হয়।

৪।ফিমেলের কালারের তুলনায় মেলের কালার অনেক উজ্জ্বল হয়।

৫।মেলের পেটের নিচে ২ টি ফিন থাকে আর ফিমেলের মাত্র ১টি ফিন থাকে।
#1

#2


টাইগার বার্ব এর ন্যাচারাল  ব্রিডি method :;
প্রথমেই আপনাকে একটি বড় ট্যাংক নিতে হবে যাতে কমপক্ষে ১০/১৫/২০ গ্যালন পানি রাখা যায়। খেয়াল রাখতে হবে মাছ যাতে ভালোভাবে সাতার কাটতে পারে।  যেহেতু মাছগুলো সাতার কাটতে কাটতে ডিম ছাড়ে তাই বড় জায়গা নিশ্চিত করতে হবে। ট্যাংকে পানি দেওয়ার পর এয়ারপাম্প দিতে হবে ।মাছের ডিম পারার জন্য পানিতে কচুরিপানা বা ডেন্সা বা যেকোনো ভাসমান লাইভ প্লান্ট দিতে হবে। লাইভ প্লান্ট দিতে না পারলে নাইলনের দড়ি ব্যবহার করতে পারেন। ট্যাংক প্রস্তুতের   ১ দিন পর  মাছ ছাড়তে পারবেন তাই ততক্ষণ এয়ারপাম্প চালিয়ে রাখবেন। তারপর আপনার ট্যাংক মাছ ছাড়ার জন্য তৈরী। ১টি ফিমেলের জন্য ২ টি মেল এই অনুপাতে মাছ রাখতে হবে।
Loaded female

এরপর অপেক্ষার পালা। ১-২ দিনের মধ্যে মাছ ডিম ছেড়ে দেয়।ডিম গুলো প্লান্টের গায়ে লেগে থাকতে দেখা যায়।

ডিম দেখার পর পানিতে মিথাইল ব্লু দিতে হবে। এরা সাধারণত ডিমের যত্ন নেওয়ার বদলে ডিম খেয়ে ফেলে। তাই ডিম ছাড়ার পর মাছ গুলো কে সরিয়ে ফেলতে হবে। এয়ারপাম্প যেন চালু থাকে এই বিষয় টি মাথায় রাখতে হবে।ডিম ছাড়ার পর জায়গাটি কাপড় দিয়ে ঢেকে দিতে হবে যেন সরাসরি আলো না পড়ে। ট্যাংকের তাপমাত্রার উপর নির্ভর করে ডিম ফোটার সময়। সাধারণত ১৮ থেকে ২৬ ঘন্টার মধ্যে ডিম হ্যাচ হয়ে বাচ্চা বের হয়।

বাচ্চা হ্যাচ হওয়ার কয়েক ঘন্টা পর বাচ্চা কে খাবার দিতে হবে। বাচ্চার জন্য সবচেয়ে ভালো খাবার হলো ডাপনিয়া। বাচ্চা কে খুব মিহি ডাপনিয়া দিতে হবে।ব্রাইন shrimp এর egg হ্যাচ করে দিতে পারেন। মাঝে মাঝে প্যাকেট জাত খাবার গুড়া করে দিবেন। খেয়াল রাখবেন প্রোটিনের পরিমাণ যেন বেশি থাকে। চেষ্টা করবেন সপ্তাহে ৩০-৪০% পানি চেন্জ করতে হবে। কখনোই ওভার ফিড করবেন না বা বেশি খাবার দিবেন না এতে পানির কন্ডিশন খারাপ হতে পারে এবং আপনার মাছের মৃত্যুও হতে পারে। তাই পানির কন্ডিশন ঠিক রাখতে হবে।
তাই বাচ্চা গুলো কে বড় জায়গা দিতে হবে, পানির কন্ডিশন ঠিক মতো রাখতে হবে,প্রতিদিন ৩ বেলা খাবার দিতে হবে।তাহলে আপনার মাছ গুলোর গ্রোথ আর কালার দুটোই ভালো হবে।

Happy fish keeping😊

শনিবার, ২ মে, ২০২০

এন্জেল ব্রিডিং

এন্জেল ব্রিডিং

জনপ্রিয়তার দিক থেকে গোল্ড ফিসের পরের স্থানে আছে এন্জেল।খুব কম লোকেই পাওয়া যাবে যে তার এ্যাকুরিয়ামে এন্জেল ফিস রাখে নি।আপনি চাইলে এই জনপ্রিয় মাছটি ঘরে বসেই ব্রিডিং করতে পারেন। তাহলে জেনে নিন সহজ কিছু ব্রিডিং method.
আজকে এন্জেলের ন্যাচারাল ব্রিডিং নিয়ে কথা বলবো। প্রথমে জানাবো কি কি লক্ষণ দেখে বুজবেন যে এন্জেল জোড়া ব্রিডিং এর জন্য তৈরী।

১.মেল ফিমেল জোড়া বাধে।

২.এন্জেল জোড়া আলাদা হয়ে থাকতে শুরু করে। যেমন : আ্যাকুরিয়ামের কোণায় বা প্লান্টের আড়ালে এদের দেখা যায়।

৩.এরা যেখানে আবস্থান করে সেখানো কোনো মাছ যাওয়ার চেষ্টা করলে এরা আক্রমণ করে বসে বা আক্রমণের চেষ্টা করে।

৪.এই সময় তাদের জায়গা টা তারা পরিষ্কার করে ডিম পাড়ার জন্য। যেমন : আ্যাকুরিয়ামের গ্লাসের ময়লা পরিষ্কার করে বা প্লান্টসে যদি কোনো ময়লা থাকে তা পরিষ্কার করে ফেলে।


৫.এই সময় এরা নির্জন স্থানে থাকতে দেখা যায়।
৬.শুধু মাত্র প্রজনন ঋতুতে এদের লেজের কাছে প্রজনন fin দেখতে পাওয়া  যায়।যা দেখতে অনেক টা টিউব আকৃতির।

এই বিষয় গুলো যদি ঠিক থাকে   তবে বুঝবেন আপনার মাছ ব্রিডিং এর জন্য তৈরী।
এখন আপনার করণীয় কাজ গুলো হচ্ছে --
১. এন্জেল জোড়া টাকে আলাদা আ্যাকুরিয়ামে রাখা।
২.আ্যাকুরিয়ামে এয়ারপাম্প দেওয়া। তবে ভুলেও ফিল্টার দিবেন না এতে আপনার মাছের ডিম বা বাচ্চা নিজেই ফিল্টার হয়ে যাবে।
৩.মিথাইল ব্লু দিতে কখনোই ভুলবেন না।
তারপর আপনার সিদ্ধান্ত আপনি কি প্লান্টেড আ্যাকুরিয়ামে ব্রিডিং করাবেন নাকি নরমাল।
প্রথমে প্লান্টেড আ্যাকুরিয়ামের কথা বলি। এক্ষেত্রে আপনার আ্যাকুরিয়াম প্লান্টেড হতে হবে।এন্জেল প্লান্টের গায়ে ডিম পাড়বে। পরবর্তী তে তা হ্যাচ হবে।এক্ষেত্রে মাছের এতটা যত্ন নেওয়া প্রয়োজন হয় না
আর নরমাল ট্যাংকে ব্রিডিং আরও সহজ।  আপনার আ্যাকুরিয়ামে এন্জেল ফিস ব্রিডিং ট্যাংকে রাখবেন। ব্রিডিং  ট্যাংকে একটা এয়ারপাম্প ছাড়া আর কিছু থাকবে না। তারপর আ্যাকুরিয়ামে ব্রিডিং প্লেট /কাচের স্লাইড/প্লাস্টিকের পাইপ দিতে হবে যাতে মাছ ডিম পারতে পারে।
ডিম পাড়ার পড়ে মাছ গুলো আরও আক্রমণাত্বক হয়ে উঠে।
ডিম পাড়ার পর যদি মাছ গুলোকে  ডিম খেতে দেখেন তবে মাছ গুলো সরিয়ে ফেলবেন। সাধারণত ছেলে মাছ টা ডিমের যত্ন নেয়। মাঝে মাঝে এন্জের নিজের বাচ্চা নিজে খেয়ে ফেলে এমন আবস্থা দেখলে দ্রুত ব্রুড ফিস গুলো সরিয়ে ফেলবেন।
এন্জেরের বাচ্চা হ্যাচ হওয়ার পর যখন সাতার কাটা শুরু করে তখন থেকে খাবার দেওয়া শুরু করবেন। এন্জেলের বাচ্চার জন্য সবচেয়ে ভালো খাবার হলো ডাপনিয়া।এছাড়া ও দোকানে পাওয়া যায় এমন খাবার গুড়া করে দেওয়া যায়। খেয়াল রাখতে হবে যেন প্রোটিনের পরিমাণ বেশি থাকে।  ডিমের কুসুম ও দিতে পারেন তবে পরিমিত হারে। ডিমের কুসুম সহজেই পানির কন্ডিশন খারাপ করে দেয়। প্রতিদিন ৩ বেলা খাবার দিবেন।এন্জেলের ক্ষেত্রে তাপমাত্রা ঠিক রাখতে হবে। তাপমাত্রা সামান্যতম পরিবর্তন হলে মরে যেতে পারে এন্জেল ফ্রাই। তাই তাপমাত্রার দিকে খেয়াল রাখবেন। ফ্রাই ট্যাংকের পানি সপ্তাহে ৩০-৪০% পরিবর্তন করবেন। ফ্রাই এর বয়স ১ মাস হলে বড় ট্যাংকে স্থানান্তর করবেন।
Happy fish keeping
                     মারবের এন্জেল
                   মারবেল এন্জেল

Featured post

নিয়ন টেট্রা ব্রিডিং

           নিয়নটেট্রা( neontetra)   আ্যাকুরিয়াম ফিসগুলোর মধ্যে নিয়ন টেট্রা একটি।  নিয়ন টেট্রা হলো টেট্রা গ্রুপের একটি ছোট্ট মাছ। নিয়...